জিকির ও তিলওয়াত - মাস্তুরাতের মোজাকারা

  • প্রকৃত পক্ষে যখন কোন মানুষের দিলের মধ্যে এ কথা বসে যাবে যে আমি যেখানেই থাকি না কেন আল্লাহ তায়ালা আমার সাথে আছেন, আমাকে দেখছেন, তখন ঐ লোকের দ্ধারা চাই নারী হোক বা পুরুষ হোক কোন গুনাহের কাজ হতেই পারে না। মানুষের দ্ধারা গুনাহ তো তখন হয় যখন সে গাফেল থাকে। এজন্য আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতিটি বান্দাকে বেশী বেশী যিকির করতে বলেছেন এবং গাফেল থাকতে নিষেধ করেছেন।

  • মানুষ যে আমলটা পাবন্দীর সাথে করে অসুস্থতা বা সফরের কারণে যদি না করতে পারে আল্লাহ তায়ালা তবুও তাকে সমান সওয়াব দেন।
  • হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহতায়ালার এরশাদ নকল করে বলেন, তুমি ফজর ও আছর নামাজের পর কিছু সময়ের জন্য আমার জিকিরে মশগুল থাকো আমি মধ্যবর্তী সময়ের জন্য তোমার যাবতীয় প্রয়োজন মিটিয়ে দিবো।

  • জিকির ও তেলাওয়াত
    জিকির ও তেলাওয়াত
  • তিন তাছবীহ আদায়ের সময় কালেমা সওম যখন পড়া হয় তখন অর্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে পড়া। দরুদ পড়ার সময় এই উম্মতের জন্য হুজুর (সঃ) এবং তার খান্দানের দয়ার কথা ভাবা। এস্তেগফারের সময় এরকম মনে করা যে, আল্লাহ তায়ালার ক্ষমার সাগরে আমার ময়লা দিলকে ধৌত করছি।

  • এস্তেগফার এবং দরুদ শরীফ বেশী বেশী পড়া। এস্তেগফারের ৩টি বড় বড় লাভ হলো,
    1. ধারনার বাইরে রিযিক লাভ।
    2. দুঃশ্চিন্তা দূর হয়।
    3. সংকীর্ণতায় রাস্তা খুলে দেন।
  • একবার দরূদ শরীফ পড়লে চল্লিশটি ফায়দাঃ
    1. ১০ টি নেকী হয়।
    2. ১০ টি গুনাহ মাফ হয়।
    3. ১০ টি রহমত নাজিল হয়।
    4. জান্নাতে ১০ গুন মর্যদা বৃদ্ধি হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মুমিনগণ তোমরা রাসুলের প্রতি দরুদ ও ছালাম প্রেরণ কর।
  • সাইয়্যিদুল এস্তেগফার পড়া সকাল সন্ধ্যায় এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়া। এছাড়া অন্যান্য অজিফা আদায় করা।
  • একটি হাদিসের সারাংশ এমন, সমস্ত কালামের উপর আল্লাহ তালার কালামের মর্যাদা এরুপ যেমন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার মর্যাদা সমস্ত সৃষ্টির উপর। আরেক হাদিসে নবীজি বলেন যার সারাংশ হলো কিয়ামতের দিন কোরন শরীফ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ সুপারিশ কারী আর কেউ হবে না। না কোন নবী না কোন ফেরেশতা না অন্য কেউ। নবীজির আগে পিছের গুনাহ মাফ হওয়া সত্বেও দৈনিক ৭০ বার এস্তেগফার করেছেন।
  • হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যাক্তি সর্বশ্রেষ্ঠ যিনি কুরআন শরীফ নিজে শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।
  • মাওলানা আশরাফ আলি থানভী রহঃ সকল মুসলমান নর নারীর জন্য কুরআন সহীভাবে তেলওয়াত শিক্ষা করাকে ফরজ বলেছেন। উলামায়ে কেরাম কুরআন সহীভাবে পাঠ করাকে সকল মুসলমান নর নারীর উপর ওয়াজিব বলেছেন। সকল ইমামগন এ বিষয়ে একমত।

  • তেলাওয়াত দৈনিক নির্দিষ্ট সময়েই করা উচিত তা না হলে বরকত পাওয়া যাবে না। যারা নিয়মিত কোরান তেলাওয়াত করে থাকেন তাদেরকে কখনও অক্ষম বার্ধক্য স্পর্শ করে না। প্রতিদিন তেলাওয়াতের একটি পরিমান নির্ধারণ করা। কোন কারণে বাদ পড়লে পরে তার কাযা আদায় করা।
  • মাওঃ ইলিয়াস (রঃ) এর মা বিবি ছফিয়্যা (রঃ) খুব উচ্চ স্তরের হাফেজা ছিলেন। প্রতি রমজানে তিনি ৪০ খতম করতেন। এছাড়া দৈনিক আরো অনেক অজিফা আদায় করতেন।
  • ইমাম শাফেয়ী রহঃ প্রতি রমজান মাসে একষট্টি খতম করতেন। ১ খতম দিনে, ১ খতম রাতে এবং ১ খতম তারাবীর মধ্যে।
  • কথিত আছে হযরত উসমান রাঃ এর নিকট অতি মাত্রায় তিলওয়াতের দরূণ দুই জিলদ কুরআন ছিড়ে গিয়েছিলো।
  • ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) এর মতে কুরআনের হক বছরে দুই খতম।
  • চার নিয়তে কুরআন তিলওয়াত করা চাইঃ
    1. সহীহ করার নিয়তে।
    2. খতম করার নিয়তে।
    3. অজিফা আদায় করার নিয়তে।
    4. মাসনুন সূরা মুখস্ত করার নিয়তে।
Next Post Previous Post